ঢাকা: জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবিতে শাহবাগ গণজাগরণ চত্বরের জাতীয় জাদুঘরের সামনে শহীদ রুমী স্কোয়াডের আমরণ অনশন কর্মসূচি ৪ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার শহীদ রুমি স্কোয়াডের সমন্বয় সাদাত হাসান নিলয়কে ফলের জুস খাইয়ে অনশন ভাঙ্গান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ব্লগার মারুফ রসুল, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, লাকি আকতার প্রমুখ।
তারা প্রত্যেকেই অনশনকারীদের মুখে ফলের জুস খাইয়ে অনশন ভাঙ্গান। এ সময় শহীদ রুমি স্কোয়াডের সমন্বয়ক সাদাত হাসান নিলয় সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী ও প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা একে খন্দকার গণজাগরণ মূল মঞ্চে এসে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তার প্রতি এবং সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেছি। আগামী ৪ এপ্রিল গণজাগরণ মঞ্চের যে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে সেদিন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রতির ওপরই নির্ভর করছে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি। আমরা আশাকরি জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ করার দাবিতে চলমান আন্দোলন আরো কঠোর হবে। ইমরান এইচ সরকার সাংবাদিকদের বলেন, শহীদ রুমি স্কোয়াডের আমরণ অনশন কর্মসূচি নি:সন্দেহে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে আরো বেগবান করেছে। মাননীয় মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির আস্থা রেখে আগামী ৪ এপ্রিল শহীদ রুমি স্কোয়াড তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে। আশাকরি সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবো। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. ইমরান বলেন, আগামী ৪ তারিখ জামায়াত শিবির নিষিদ্ধে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে আমরা আরো বৃহত্তর কঠোর কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হবো। তিনি আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় এ অনশন কর্মসূচি দেড়শ’তম ঘণ্টা স্পর্শ করে। ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় শহীদ রুমী স্কোয়াডের ৭ তরুণ এ আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। পরে আরও ১৫ জন যোগ দেওয়ায় এখন অনশন করছেন মোট ২২ জন। গণজাগরণ মঞ্চের ২১ ফেব্রুয়ারির মহাসমাবেশ থেকে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ২৬ মার্চ পর্যন্ত যে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিলো, সরকার সেটি না মানায় এবং এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায়, শহীদ রুমী স্কোয়াডের সাত তরুণ এ অনশন কর্মসূচির সূচনা করেন। ২৭ মার্চ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত স্বত:প্রণোদিত হয়ে অনশনে যোগ দেয় আরো ১৫ জন। অনড় এই দাবিতে আমরণ অনশনে যোগদানকারীর সংখ্যা এখন মোট ২২ জন। অনশনরতদের মধ্যে সাদাত হাসান নিলয়, রুবায়েত আদনান দীপ, আলিফ প্রধান, মানিক সূত্রধর, শুভ্র মাহমুদ জ্যোতি, শেওতী শাহগুফতা এবং নাজমুল আলম ভূঁইয়াকে ৩০ মার্চ রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে সাদাত হাসান নিলয়, মানিক সূত্রধর ও শুভ্র মাহমুদ জ্যোতির অবস্থা ছিলো আশঙ্কাজনক। শুভ্র মাহমুদ জ্যোতি বাদে অন্যদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটায় রোববার সকালে তারা আবার অনশনস্থলে ফিরে আসেন।
